ধর্মনিরপেক্ষ তা

ধর্ম নিরপেক্ষতা

আবজীী আনোয়ার সম্পাদিত

বাংলা একাডেমী £ ঢাকা

প্রথম সংস্করণ ক।তিক, ১৩৭২

প্রকাশক £ ফজলে রাবিব

প্রকাশন -মুদ্রণ-বিক্রয় বিভাগ ব।ংলা একাডেমী

ঢাকা--২

মুদাফর 2 আবছর রশি খান আইডিয়াল শ্প্রিন্টং ওয়াকস গ্রেটার রোড কাজিরগঞ্জ, র।জশাহী |

প্রচ্ছদ আলী মনোয়ার

প্রসঙ্গ কথ

ধর্মনিরপেক্ষতা স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি চতুইইয়ের মধ্যে অন্যতম বস্ততপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বাঙালী জাতীয়তাবাদ পরস্পর নির্ভরশীল ধারণা একটি ছাড়া অগ্ঠটি কল্পনা কর। যায় না. একটি ছাড়! অন্যটি সত্য হয়ে উঠবে না। বরং জাতীয়তাবাদ ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যতিরেকে রাষ্ট্রের ভিত্তিই বানচাল হয়ে যাবে

পঁচিশ ব্রছরের পাকিস্তানী আমলের ধশাশ্রত রাজনীতির সংস্কার বিভিন্ন প্রচারমাধাম শিক্ষাবাবস্থার মধো দিয়ে আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রকে এমনভাবে আবিষ্ট করে ছিল যে, সে সংস্কার কাটিয়ে ওঠা সহজ নয় এবং এই কারণে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্টনীতি সম্পর্কে আমাদের অনেকের মনেই প্রচুর অস্পষ্টতা থেকে গেছে। রাষ্রনীতি হিসেবে ধর্ম- নিরপেক্ষতার প্রয়োগ, সামাজিক জাঁবনে তার প্রকাশ এবং সবোপরি বাক্তির চিস্তাজগতে তার তাৎপর্য প্রভৃতি বিভিন্ন দিক থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে সতর্ক চিন্তার প্রয়োজন এই প্রয়োজনের কথ মনে রেখেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিতা সংসদ ০সখানে গত বৎসর ধর্মনির- পেক্ষতার ওপরে আলোচনা সভার আয়োজন করেন এবং ছাত্র শিক্ষক সকলকে এই বিতর্কে অংশ গ্রহণ করার জন্ঠ আহ্বান জানান তিন পিন ব্যাপী এই আলোচন! সভায় ছাত্রশিক্ষকদের উপস্থিতি আলোচনার বৈচিত্র্য ব্যান্তি থেকে বোঝা যায় যে, তুমুল উৎসাহ উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছিল এখন এই আলোচনা সভার বিভিন্নমুখী বক্তব্যকে গ্রন্থাকারে নিবদ্ধ করে এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তরা আমাদের ধন্ঠবাদ ভাজন হয়েছেন। গ্রন্থটি সাধারণ বাঙালী পাঠকসমাজকে উপহার দিতে পেরে আমরাও আনন্দিত।

আশা করছি, আমাদের ব্যক্তিগত সংস্কার সমূহকে এরপর এই আলোচনার আলোকে নতুন করে পরীক্ষা করতে আমরা উদ্বন্ধ হব। ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাধীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; সম্বন্ধে সঠিক কর্মপন্থা গ্রহণ করতে হুলে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিধি চারিত্র সম্বন্ধেও সুস্পষ্ট ধারণার প্রয়োজন। কথা সাধারণ নাগরিক, দায়িত্বশীল সরকারী কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃশ্দ বুদ্ধিজীবী মহল সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজা।

এই গ্রন্থের বছল প্রচার কামনা করি।

মযহারুল ইসলাম মহাপরিচালক, ংলা একাডেমী, ঢাকা

স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিধর্ম নিধিশেষে যে সমস্ত মহৎ প্রাণ ব্যক্তি আত্মাহুতি দিয়েছেন তাদের পুণাস্মতির

উদ্দেশ্যে

সম্পাদকের ভুমিকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে গত বৎসর উনিশে, বিশে একুশে আগষ্ট তারিখে শেরে বাংলা ফজলুল হক হল মিলনায়তনে ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর তিনদিন ব্যাপী এক আলোচন। চক্রের আয়োজন কর! হয়।

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলে বা কোন কোন প্রাগ্রসর রাজনৈতিক সংগঠনে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটি নতুন কিছু নয়; কিস্ত তবু আপামর জনসমষ্টির সকল পধায়ে ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণ। আছে এরকম ধরে নেয়াটা ভুল হবে। তা] ছাড়া জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র সমাজতন্ত্রের মতো স্ক্যুলরিজমের ধারণাও আমরা পাশ্চাত্য থেকে গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে অসংগতি কিছু নেই বরং আছে এক ধরণের এঁতিহাসিক অনিবার্ধতা। তবু ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কি বোঝায় এবং আমাদের দেশে তা কি রূপ নেবে বা নেয়া উচিত নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। এই প্রয়োজনের চেতনাই সাহিত্য সংসদের সদস্বৃন্দকে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজন করতে উদ্ব,দ্ধ করে। তিনদিন ধরে প্রায় চারশ ছাত্র সুধী- মণ্ডলীর নিয়মিত উপস্থিতি এবং বহুজনের আলোচনায় অংশগ্রহণ সভার সময়োপযে।গিত। যৌক্তিকতাকে সন্দেহাতীতরূপে প্রমাণ করেছে এই বিতর্কে আবেগ বা উত্তেজনার বিচ্ছ,রণও কম হয়নি। এই আলোচনা! সভা দলমত নিধিশেষে সকলের জন্য উনুস্ত ছিল এবং প্রত্যেক বক্তাই তার নিজস্ব চিন্তা, সংশয় বা সংস্কার অকপটে ব্যক্ত করেছেন। বিষয়বন্ত

প্রাপ্ত আলোচনার গুরুত্ব বৈচিত্র বিবেচনা করে আমরা এই অধিবেশন- ত্রয়ের প্রবন্ধাবলী এবং আলোচনার মুল বক্তব্যসমূহ সংকলিত করে বৃহত্র পাঠকসমাজের সামনে রাখলাম

তিনদিনের বিস্তংত আলোচনা সভার সংক্ষিপ্ত নির্ধাস রচনা কর! দুরূহ ব্যাপার পঞ্চাশ জন বক্তা প্রায় এগার ঘণ্টাব্যাপী বক্তৃতায় যে বক্তব্য রেখেছেন তাকে ছৃঘন্টার পাঠ্যবিষয়ে ফ্লাড় করান নানাদিক দিয়েই সন্তুষ্টি উত্পাদন করবে না। অপুর্ণতার এই সম্ভাবনাটুকু মেনে নিয়েই আমরা প্রত্যেক বক্তার বক্তৃতা থেকে মুল বক্তব্যটুকু অবিকৃত রাখার চেষ্টা করেছি এবং যতদূর সপ্তব বক্তার ভাষা শব্দ ব্যবহারের বৈশিষ্টযটুকুও ধরার চেষ্টা করেছি বক্তাদের বক্তব্য উত্তম পুরুষে রেখে দেয়াটা এই ইচ্ছ। ছাপাই প্রণোদিত। তবু স্থানাভাবে অনেক চমকপ্রদ বক্তব্য বাচনভঙ্গীকে একটি রঙরূপহান, নিধিশেষ সংক্ষিপ্ত আকার দেয়ার অপ্রিয় দায়িত্টুকুও (মনে নিতে হয়েছে আশা করি বক্তারা নিজেদের সহনশীলতার গুণে সম্পাদককে ক্ষমা করবেন

সাহিত্য সংসদ আলোচন। সভার উদ্যোক্তা হলেও এই উদ্যোগের প্রথম থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ খান সারওয়ার মুরশিদ সাহেবের উৎসাহ সহযোগিতা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এই আলোচনা চক্রের তৃতীয় তথা সমাপ্তি অধিবেশনে তার সভাপতিত্ব করারও কথ। ছিল ; কিন্তু গুরুতর অস্থস্থতাজনিত কারণে তিনি অধিবেশনে উপস্থিত হতে পারেন নি তিনি বাক্তিগতভাবে আলোচন্‌। সভায় অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তার লিখিত বক্তব্য সংকলনের সমাপ্তিমূলক প্রবন্ধ হিসেবে সংযোজন করতে দিয়ে আমাদের কুতজ্ঞ তা- গাশে আবদ্ধ করেছেন।

সবশেষে ধারা এই আলোচনা সভাকে সাফলামণ্ডিত করার ভণ্য নানাভাবে আমাদের সাহায্য সহযোগিতা ফরেছেন গাদের সকলকে

ধন্যবাদ ও. কৃতজ্ঞতা জানাবার এই সুযোগ গ্রহণ করতে চাই ।' প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সব অধ্যাপক ছাত্রদের ধারা এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করে আমাদের উদ্যোগকে ফলপ্রন্থ করে তোলায় সহায়তা করেছেন আমরা বিশেবভাবে কৃতজ্ঞ আলোচনার তিন অধিবেশনের সভাপতিদের কাছে, ধার! তাদের মুল্যবান সময় ব্যয় করে এক একটি দীর্ঘ” অধিবেশনে কখনে! উদ্বেগজনক, কথনে। ক্লাস্তিকর অবস্থার ভেতর সভাপতিত্বের গুরুদায়িত বহন করেন, যার সবটুকু হয়ত তাদের কাছে উপভোগ্য হয়নি শেরে বাংলা হলের প্রাধক্ষ্য ডঃ কাজী আবছল মান্নান সাহেবকে তার হলের মিলনায়তনটি তিনদিন ব্যবহার করতে দেবার জন্চ এবং বাণিজ্য অনুষদের অধিকর্তা ডঃ আসগর আলা তালুকদার সাহেবকে এই সিশ্পোসিয়ামের আলোচনা রেকড” করতে তার টেপরেকড“রটি ধার দেবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই বাঙলা একাডেমীর মহাপরিচালক ড: মযহারুল ইসলাম সাহেব আমাদের আধিক সংকটের সময়ে স্বতঃস্ক-্- ভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে গ্রন্থটি প্রকাশের জন্ঠ গ্রহণ না করলে হয়ত আরে। দীর্ঘকাল গ্রন্থটি দিনের আলোর মুখ দেখতে পেত না, জন্য তার কাছে আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা এই গ্রন্থের মুদ্রণ প্রভৃতির তত্বাবধান করেন অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক। তার জগ্ত এদের ছজনের কাছে আমার ব্যক্তিগত কতজ্ঞতা

জানাচ্ছি।

সংকলনের দ্বিতীয় প্রবন্ধের লেখিকা মিসেস জোন হোসেন তার বক্তব্য তার মাতৃভাষা ইংরেজীতে রেখেছেন। আমর! গ্রশ্থাংশে তার ংলা অনুবাদ দিয়েছি মুল প্রবন্ধ পরিশিষ্ট হিসেবে সংযোজিত হল।

আলোচনার তৃতীয় দিনের শেষাংশে টেপ রেকডণরটি যাস্লিক গোলযোগের জগ্চ সাময়িকভাবে খারাপ হয়ে যাওয়ায় হ'তিনজনেক বক্তবা- বাদ পড়ে গেছে আমরা 'এর জন্য বক্তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থা

গ্রন্থ প্রকাশে নান! কারণে এক ধছরের গুপর সময় লাগল ভর জগ আমরা লজ্জিত দুঃখিত। তবে গ্রন্থটির প্রালঙিকত! নষ্ট হুয়নি এই যা ভরসা।

১, অক্টোবর ৭৩ সাহিত্য সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় 'আলী আনোয়ার 'ক্যাম্পাস, রাজশাহী

স্তচী পত্র

ধর্মনিরপেক্ষতা £ সনৎকুমার সাহা

সেক্যুলরিজম £ কাজী জোন হোসেন

আলোচনা £ রমেন্দ্রনাথ ঘোষ অন্যান্য সভাপতির অভিভাষণ : জিল্লুর রহমান সিপ্দিকী ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশ £ গোলাম মুরশিদ ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ী £ এবনে গোলাম সামাদ আলোচনা £ অসিত রায় চৌধুরী অন্তান্য সভাপতির অভিভাষণ £ সালাহ উদ্দীন আহমদ ধর্মনিরপেক্ষতার ভবিষ্যৎ £ আলী আনোয়ার আলোচনা £ কাজী হাসিবুল হোসেন অন্যান্য সভাপতির অভিভাষণ £ মফিজ উদ্দিন আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়, ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তঠান্ঠ অনুষঙ্গ £ থান সারওয়ার মুরশিদ

পরিশিষ্ট

১৪ ১৬ ৩৪৯ ৪৬ ৬৬ 50 ৭১৭ ৯১৭ ৯১৬ ৯১৩৭

৯৮০১ ১৫৭

প্রথম অধিবেশন

বিষ £ ধমনিয়পেক্ষতার সংজা ইত্যাদি

সম্ভাপতি প্রফেসর জিল্পর রহমান সিদ্দিকী

প্রবন্ধ পাঠ £ অধ্যাপক সনৎকুমায় সাহা

অধা।পকা কাজী জোন হোসেন অ।লোতনা তকউর মফিজ উদ্দীন আহমপ, '

অধ্যাপক গোলাম মুরশেদ, জালাল উদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক র্পমেন্্রনাথথ ঘোষ, লৃগুযুল আনিস, অধ্যাপক শাহ, হাবীবর রহমান, আশরাফ আলী বু, ডক্টর গ্রব্নে গোলাম সামাদ, ডকটর আসগর আলী তালুকদার, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, জধ্যাগক দিলীপ নাথ, মোস্তফা কামাল, নুরুল ইসল!ম, অধ্যাপক কাজী

হানিবূজ হোসেন আলো অনেকে

ধরন নিরগেক্ষতা অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা অর্থনীতি বিভাগ

ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে কিছু বলা আমার পক্ষে সংগত কিনা প্রশ্ন আমাকে বিব্রত করে। ব্যক্তিগতভাবে কোন প্রথা বদ্ধ ধর্মেই আমার কোন আস্থা নেই, এবং ম্রচলিত অর্থে ঈশ্বর আমার কাছে একট! ভ্রান্তি অথবা অবান্তর উপদ্রব বলে মনে হয়। অবস্থায় ধর্মনিরপেক্ষতা সম্বন্ধে আমার বক্তব্যের একপেশে হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আমি অস্বীকার করিনে। তবে বিষয়ে আমি সচেতন যে, আমার অস্তিত্ব উপেক্ষা করেই চারপাশের জনসমছ্ি আপন প্রবণতায় চলে, অথবা! আপন ইচ্ছায় বসে থাকে যদিও জনগণের ধর্ম বিমোচন এক কল্যাণ- কর অবস্থা বলে মানি, তবু বাস্তবে তার ব্যাপক সংগঠনে বিশ্বাসী হওয়া যে ক্যানিউটের সমুদ্রশাসনে প্রয়াসী হওয়ার মতই নিবোধ হাস্যকর তা আমার পছন্দসই না হলেও আমি স্বীকার না করে পারিনে। আর ধর্মনিরপেক্ষতা যতট। বিষয়ীনির্ভর, তার চেয়ে অনেক বেশী বিষয়- নিরর বলেই আমি মনে করি

কিন্ত বাক্কবে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে য়েকি বোঝায়, নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে অনেক। প্রত্যেকেই নিজের মতো করে এক একটা মানে খাড়া করি এবং তাতেই ইচ্ছা হলে বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা! করি একজনের ধারণ। অন্ধজনের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে। তবু যেহেতু বিশ্লশ্নটি বিস্ফোন্নক এবং সমস্যাকে পাশ কাটানোর পথ প্রশস্ত

ধর্মনিরপেক্ষতা

স্ববিধাজজনক, তাই নিয়ে বিতর্কের ভিতরে না গিয়ে নানা রকম গৌজা- মিলের জগাখিচুড়িকে মেনে নেওয়াই আমরা বুদ্ধিমানের কাজ মনে করি-_ ধর্মনিরপেক্ষতার অপব্যাখ্যা যদি আসর জণাকিয়ে বসে, তবুও সাচ্চা ঝুটা, সব রকম ধারণায় নিরপেক্ষ থাক। বোধহয় ধর্মনিরপেক্ষতার লক্ষণ নয়। কিন্ত কথা মানলেই আবার এক বিপজ্জনক অবস্থায় আমাদের পিছলে পড়ার সম্ভাবনা ধর্মনিরপেক্ষতা সম্বন্ধে বিপরীত ধারণার সহাব- স্থান অযৌক্তিক হলে ধর্ম সম্পর্কে বিপ্রীত ধারণার সহাবস্থান যুক্তিসংগত হয়কি? দ্বিতীয়টিকে মানলে প্রথমটির যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার অধিকার আমাদের বিনষ্ট হয়। এবং তা হলে ধর্মনিরপেক্ষতার সঠিক মানে খোজা নিতান্তই অর্থহীন হয়ে পড়ে। তবু যেহেতু ধরে নিই, চিন্তায় নৈরাজ্য কর্মে বিশংজ্খলা সামগ্রিকভাবে গণজীবনে ক্ষতিকর, তাই ধর্মনিরপেক্ষতার একট সংগত গ্রহণযোগ) ব্যাখ্যা অন্বেখণ একেবারে অর্থহীন মনে হয় না।

এখানে অবশ্য একটা কথা বলা প্রয়োজন, ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে বিভ্রান্তি যে শুধু আমাদেরই তা নয়। ভারত গত পঁচিশ বছর ধরে ধর্ননিরপেক্ষতাকে তাদের অন্থতম রাষ্তীয় নীতি বলে ঘোষণা করে আসছে। অথচ সেখানেও রাষ্ীয় ক্ষমতার সবোচ্চ স্তরে বিষয়ে ধারণ অস্বচ্ছই রয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নেহরু রাষ্ীয় কারধাবলী থেকে ধর্মকে বাদ দেওয়াই নংগত মনে করতেন, জাতীয় জীবনেও প্রথাবদ্ধ সব ধর্মের প্রতি উদাসান থাকাই তার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হাতা অথচ সে দেশেই দার্শনিক রাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণ ঘোষণা করেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা। নয়. এবং 111000 16৬৮ 01 1165 এর কল্পিত তাববাদী পূর্ণতায় তিনি আস্থাবান। সে দেশের সংবিধান ঈশ্বরবজজিত; কিন্ত সংবিধানের রক্ষকদের অনেকেই জাতীয় পরিষদে শপথ নেন ঈশবরেরই নামে। পাশ্চাত্যের অনেক 'আলোকপ্রাপ্ত' দেশের রাধীয় বিধিনিষেধেও কোন বিশেষ ধর্সের প্রতি

ধর্মনিরপেক্ষতা

নিষ্ঠাবান থাকা প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়। ইংল্যাণ্ডের অধিপতি গীর্জারও রক্ষাকর্তা, এবং প্রোেস্টান্ট সম্প্রদায় বহির্ভ,ত কাউকে তার বিয়ে করার অধিকার রাজকীয় অনুশাসনে নিবিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

বাইবেল হাতে শপথ করে রাধীয় কাভার গ্রহণ করেন, এবং জার্মানিতে অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের নাম ক্রিশ্চান ডিমোক্রাটিক পাটি

সব দেখে শুনে আমাদের বিভ্রান্তি বাড়ে বই কমে না, প্রশ্ন ওঠে, ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ কি তবে অন্তত্রও উপেক্ষিত ? ন। কি ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে এমন কিছু বোঝায়, যাতে রা্ীয় বিধানে বিশেষ ধমে প্রতি অথবা সাধারণভাবে ধম” বা ঈশ্বরের প্রতি আগ্গত্ায কোন আপত্তিকর বিষয় বলে বিবেচিত হয় না।

কর্থী হয়ত আমর] তুলে যাই যে, “ধর্মনিরপেক্ষতা একটা তৈরী কর৷ প্রতিশব্দ। উক্তি উপলব্ধির গরমিলের সম্ভাবনা তাই একেবারে উড়িয়ে দেওয়! যায় না। য়োরোপে সেক্যুলারিজম হঠাৎ একদিন দিনক্ষণ বেঁধে চালু কর হয়নি জীবনের প্রয়োজনে তা ক্রমশঃ জীবনকে অঙ্গীকার করার প্রয়াস পেয়েছে অনেক ক্ষেত্রে তাই মানুষ সচেতন ভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার চ1 না করেও এঁতিহ্য লালিত হয়ে অভ্যাসবশে ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে পড়েন। যদিও এটাকে য়োরোপীয় জীবনের সাহিক সত্য বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে, তনুও সেখানে হে বান্তব অবস্থা সমাজে সেক্যুলারিজম,-এর প্রকাশ স্বাভাবিক অনিবার্ধ করেছে, তার প্রবণতা প্রতিক্রিয়াতেই হয়ত তার অথ” ধীরে ধীরে একটা স্পষ্টতর রূপ লাভ করে চলেছে খ্র.বক হিসেবে শব্দটির ব্যবহার তাই, মনে হয়, অসমীচীন বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়ে

য়োরোপে মানুষের ধারণায় ক্রিয়াকলাপে সেক্যুলারিজম, নিশ্চিত- ভাবে রূপ পেতে থাকে রেনেসশার সময় থেকে প্রকৃত পক্ষে তখন

ধ্রনিরপেক্ষতা

থেকেই য়োরোপে আধুনিকতার সুব্রপ্যঢত ধমীয় অনুশাসনকে উপেক্ষা করে কিছু মানুষ, মানুষ হিসেবে নিজেদের স্বাধীন অস্থিত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে*উঠতে শুরু করেন। যদিও গীর্জাতন্ত্র স্কলাস.টিক ধ্যানগলারন। একেবারে উঠে যায় না, তবু সেই চতুর্দশ- পঞ্চদশ শতাব্দী থেকেই মানবমুবী মনোভাব সেখানে আর ঠেকিয়ে রাখ! সহজ হয় না। পেত্রার্ক ভাল্লা, দ্য ভিঞ্চি, শেক্সপীয়র এদের সবার চিন্তা কীতি সমকালীন খুষ্ট ধর্মের নিরানন্দ জগতের ভিত্তিভূমিতে আঘাত হানে দার্শনিক ক্রুনো ধর্মের পাগডাদের হাতে বন্দী পরে নিহত হন; কিন্তু সার বাস্তববাদী দর্শন ধর্মীয় সংকীর্ণতার প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে নোতুন চিন্তার পথ উন্মুক্ত করে। কোন পারলোকিক প্রত্যাশা নয়, জাগতিক স্থখ-ছঃখের স্বপ্র সম্ভাবনাই নব যুগের চিন্তানায়কদের বেশী করে আকর্ষণ করে, তাদের চিন্তা কর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষ পুর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়

একটা বিষয় লক্ষণীয় এই রেনেসশর মানব-মুক্তি শয়াস তৎকালীন গীজণ-কেন্ড্রিক ধর্মের গৌড়ামিকে উপেক্ষা করেই পরিচালিত হয়। সেক্যুলারিজম বলতে এখানে তাই সব ধর্মের সহাবস্থান বোঝায় না। সে ধরনের সমস্যাকে সামনে রেখে রেনেসশার উদ্ভব ঘটেনি প্রকৃতপক্ষে ধমীয় আচার-অনুষ্ঠান, রীতিনীতি, মন্ত্র-তন্ত্র ইত্যাদির দম-বন্ধ-করা পরিবেশ থেকে মানুষের চিন্তা কমকে মুক্তি দিয়ে জাগতিক সকল বিষয়ে তাকে উৎসাহিত করাতেই সেক্যুলারিজম.-এর প্রকাশ নিশ্চিত হতে থাকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিভিন শাখা, ধর্মীয় অন্ুশাসনে নয়, আপন আপন এশ্বধের বলেই তখন থেকে য়োরোপে দাড়াবর স্থযোগ

পায়

অবশ্য এই রেনেসণ কোন আকম্মিক ঘটনা নয়, বাণিজ্য অথ- নৈতিক বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনার পতথ সামক্তবাদ গী্ণার প্রেতৃত

ধর্মনিরপেক্ষতা

বিশেষ বাধ! হয়ে দাড়ায় ফলে ধমে সামাজিক চাহিদ! পূরণের ক্ষমতা! ভিতরে ভিতরে লুপ্ত হতে থাকে ; দিও সব মানুষ সে সময়ে বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন থাকে না। ব্যক্তি স্বাতগ্্য জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ব্যক্তি রাষ্ট্রের কাছে ধর্মকে প্রকৃত পক্ষে ঠটো জগন্াথে পরিণত করে তার বাইরের খোলসে বদদিও ঠাট বজায় রাখার প্রয়াস লক্ষা করা যায় আরো! কিছুকাল।

তবে এরথ! অস্বীকার করা চলে না যে, রেনেসণ সব মানুষের, এমন কি অধিক সংখ্যক মান্ুষেরও, আন্দোলন ছিলো না ব্যক্তি সমাজ জীবন জটিল বহুমাত্রিক একই সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে তাদের অবস্থান সম্ভব। ফয়োরোপে রেনেসণ পবেও এই রকম চিন্তায় কর্মে নানা স্তর এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তীত্র অন্তবিরোধ বর্তমান ছিলো। ধর্মের পাগাদের উৎপীড়ন থেকে রেহাই পাননি ক্রনো৷ অথবা গ্যালিলিও এবং এই উৎপীড়নে সামগ্রিকভাবে সমাজের সমর্থন মোটেই অকিঞ্চিৎকর ছিল না। যে বতিচেল্লি রঙে রেখায় ধম“বিমুক্ত শুদ্ধ ম্ুপ্দরের উপাসন। করেন, তিনিই পরিণতিতে ধমণান্ধ সাভোনারোলার প্রবল চরিত্রের পদ প্রান্তে আপনাকে সমর্পণ করে নিশ্চিত হন। তবে যেটা উল্লেখযোগ্য তা হলো, কালের যাত্রার ধ্বনি অল্প সংখ্যক কিছু মানুষের কানে এক সময়ে বাজে, এবং আপন আপন সুবিশাল কীতি দিয়ে সেই যাত্রায় তার! প্রচণ্ড বেগ আনেন। কালের যাত্রায় যা ম্বালানির কাজ করে, ত] সমাজ্জব ছি- ভূত কোন অলৌকিক শক্তি নয়, তা স্থয়সভুও নয়। আজকের য়োরোপ তার কাজে ভাবনায় সে সময়ের সব প্রবণতাকেই স্বীকার করে, যদিও সেক্যুলার ভাবনার প্রয়োগই ব্যজি সমাজজীবনে অনেক বেশী ব্যাপক

একট কথ। এখানে বোধহয় অপ্রাসংগিক হবে না যে, প্রাক-রেনেসশ যুগে যে অঞ্চল সেক্যুলার জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্রস্থল ছিলো, তা য়োরোপ

ধর্মনিরপৈক্ষতা নয়, আরব ভৃখণ্ড। ইবনে রুশদ,, ইবনে সিনা, ইবনে খালছুন প্রমুখ মনীষীর মুক্ত চিন্তা, সে যুগেও গোড়া মোলাদের মনঃপুত হয়নি বস্ত্রবাদে আস্থা স্থাপন বা গোষ্ঠী চেতনায় ইতিহাসের পথ অন্বেষণ অবশ্যই ধ্ীঁয় অনুশাসনের পরিপন্থী পরবতাঁকালে য়োরোগীয় রেনেসার কোন ফোন স্মরণীয় ব্যক্তির মত ওই আরব মনীষীদের অনেককে ছঃখ বরণ করতে হয়েছে তবু এটা লক্ষণীয় যে, মুক্ত চিন্তার একটা! পরিবেশ মুসলিম অমুসলিম মনীষীদের চিন্তার বিনিময় তার সমৃদ্ধি সহজ স্বাভাবিক করে তুলছিলো ধ্যাপক অথে" মানবিক মুল্যবোধে আস্থা, সহনশীলতা জ্ঞানচর্চা সমাজের উন্নততর অংশে স্বীকৃত শ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠার স্যোগ পাচ্ছিলো কিন্তু সব পণ্ড করে দিলো ক্রুসেড শত শত বৎসরের দীঘস্থায়ী ধর্মযুদ্ধ মুসলমানদের মুক্ত মানসিকতা প্রসারের আর ম্থযোগ দেয় না, জেহাদের তিক্ততা যুদ্ধের উন্মাদনা তাদের ক্রমশঃ আত্মকেন্দ্িক করে তুলতে থাকে নোতুন চিস্তার অবকাশ অথবা নোতুন করে সত্যাঞ্থে- ষণের ইচ্ছ! তাদের ধীরে ধারে ক্ষয় পায়। ক্রুসেডের অবসানে তাই তারা হয়ে পড়ে জীর্ণ অস্তঃসারশন্ত তাদেরই জ্ঞানকে আহরণ করে রেনেসণার নায়করা যখন নতুন সম্ভাবনার পথে পা বাড়ান তখন আরব জগৎ ধর্মান্বতার খোলস পরে অপরিসীম অহংকারে কুপমণ্ডকতাকে আত্মরক্ষার পরম পথ বলে বেছে নেয়। ইতিহাসে “যদি'র কোন স্থান নেই জানি, তবু ক্ষোের সঙ্গে একটা কথ! না ভেবে পারিনে, ক্রুসেভের সবনাশ। দহন যদি ওভাবে না পোড়াতো।, তবে রেনেস”ণ আনুষঙ্জিক সেকুলার চিন্তার প্রথম ফসল হয়ত ঘরে উঠতো ন্মারব জগতেই, এবং তা ঘটতো। য়োরোপীয় রেনেসশার কয়েকশ বছর”"আগেই

যাই হোক, য়োরোপে ধর্মের খ.টি থেকে মুক্তিতে যে আধুনিকতার শুরু, তা সামন্ততম্ত্রকে পঙ্গ, করে ব্যক্তিম্বাধীনতা, 'ধনতন্ত্র শিল্প বিপ্লবের পথে পরিশেষে সমাজবাদের দিকে ধাবিত হয়। অর্থনৈতিক প্রয়োজনের

৯০

ধর্মনিরপেক্ষতা

সঙ্গে তাল রাখতে ধর্ণকেও পরিবর্তন মেনে নিতে হয়। মার্টিন লুখাবের

ংস্কার প্রোটেষ্টান্ট মতবাদের অভ্যুদয় গীর্জার আধিপত্য পাঞ্া- পুরুতদের দৌরাত্ম্য বিশেষভাবে খব করে। দলীয় চেতনার ধারক হিসেবে ধম” ক্রমেই গুরুত্ব হারাতে থাকে এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সামান্িক স্থিতিবিধানে এখনও প্রয়োজনীয় মনে হলেও উন্নয়নের নিয়ামক হিসেবে তাদের কেউ আর চিহ্কিত করে না। অবশ্য থেকে এমন ধারণা করা অনুচিত যে মানুষ সেখানে ধর্মের আশ্রয়কে পুরোপুরি পরিত্যাগ করার জন্যে মনের দিক থেকে প্রস্তত হয়ে উঠেছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতেও নিরাশ্বরবাদী হলবাক, যিনি ঘোষণা করেন, অজ্জানতা, ভয় প্রব্থনা €থকে ধর্মের উদ্ভব, তশার সবচেয়ে বিখ্যাত বই 712 5৮৪0 ০1 ৪0) বিচলিত সংস্কারবোধ অন্ধ আবেগতাড়িত জনসাধারণের যুক্তিহীন আক্রোশে তোল! রাস্তায় পোড়ানো হয়। সংস্কার প্রতিক্রিয়ার এই ধারা সমাজদেহে এখনও একবারে হীনবল নয়। তবে যা ম্মর্তব্য, তা হলো আজকের মানুষের উন্নয়ন স্পহা এই সংস্কার প্রতিক্রিয়ায় ব্যাহত হয়, স্বকালে লাঞ্চিত সক্রেটিস, গ্যালিলিও অথবা হলবাকের মত মনীষীদের কীতিই আধুনিক মানুষের চিস্তার ভিত্তিভূমি রচন! করে

সেকু্যুলারিজম বহু শতাব্দী ধরে যেভাবে আচরিত রূপাস্তরিত হয়ে জবাসছে, আজ 'ধর্শনিরপেক্ষতা'কে যদি তারই ঠিক বঙ্গানুবাদ বলে ধরে নিই, তবে শুধুমাত্র সব ধর্মের সহাবস্থানেই তার অর্থ পুরোপুরি ধরা পড়ে না। একথা সত্য যে ধগনিরপেক্ষতায়' তার প্রয়োজন আছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়, ধর্ম থেকে চিন্তার মুক্তিতেই ধর্মনিরপেক্ষতা পৃপতা পায়

যে দেশে একাধিক ধর্মের মাছৰ একত্রে বসবাস করে, সেখানে রাহীয় বিধানে সধধর্মের সহাবস্থান মেনে নেওয়ায় হয়ত রাজনৈতিক গুজ্ঞা মেলে, কিন্তু তাতেই দেশের সব মানুষ চিস্তাঁয় কর্মে ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে ওঠে না।

৯১

ধর্মন্রিপেক্ষতা

অর্থনৈতিক সামাজিক শক্তিসমূহ যদি গণ্ডি ছাড়াবার প্রেরণ। না জোগায়. তবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আপন আপন বৃত্তে একসঙ্গে মুখ গু"জে পড়ে থাক! সম্ভব স্বাভাবিক বুদ্ধির মুক্তি তাতে ঘটেনা, এব সাম্প্দায়িকতার বিস্ফোরণ যে কোন সময়ে সমাজে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ভারতীয় সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার স্বীকৃতি আছে সত্য ; কিন্তু তা থেকে এটা বল। চলে না যে সাম্প্রদায়িকতা সে দেশে কোন সমস্যার স্য্টি করে না। ধর্মের গণ্ডি ভাঙার প্রবণতা এখন সে দেশে শ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠেনি, এবং তা না হলে প্রকৃত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতা দুরের জিনিসই রয়ে যাবে

তবে প্রথাবদ্ধ, ধর্মশাসিত, গোষ্ঠি জীবনের সংস্কার যেখানে প্রবল, সেখানে সমাজকে উন্নত পর্যায়ে টেনে তোলায় ব্যক্তির দায়িত্ব কতটুকু ? তার করণীয়ই বা কি? একক প্রচেষ্টায় ব্যক্তি সমাজকে কোন বিশেষ দিকে চালিত করতে পারে, ধারণ ভ্রাস্ত। প্রগতিমুখী শক্তিগুলো যদি সমাজের ভেতর গড়ে ন। ওঠে, এবং সমাজের মানুষ যদি সেই শক্তির প্রকাশকে স্বীকার করে নিতে কুষ্তিত থাকে. তবে কিছু সংখ্যক ব্যক্তির আন্তরিক প্রয়াসও গণজীবনের মুল ধারা থেকে বিচ্ছিন্নই থাকে আবার উল্টো দিকে কথাও সত্য যে. যে কোন প্রগতি আন্দোলনই শ্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির পৃথক পৃথক, কিন্তু একাভিমুখাঁ, অথবা সংঘবদ্ধ চেষ্টার ফলে রূপ পায। আসল কথ। হলো, সমাজের অভ্যন্তরে প্রগতির শক্তি লক্ষণ গুলোকে ঠিক ভাবে চেনা তাদের সঠিক প্রকাশে সহায়তা করা। তাত্ক্ষণিক ফল না মিললেও পরিণতিতে তা সমাজকেএগিয়ে নিয়ে যায়। য়োরোপে রেনেসশর ক্ষেত্রে তা ঘটেছে রেনেসশ পরবতী অনেক প্রগতি আন্দোলনের ক্ষ্ত্রেও তাই। পথিকৎদের যে প্রায়ই হর্ভোগ সইতে হয় মানবজীবনের ধারায় একথার সত্যতা বারে বারে মেলে। সমাজে উন্নতির আকাঙ্ষ। যদি প্রবল হয় এবং প্রথাবদ্ধ ধর্ম যর্দি তার অন্তরায় হয়ে দাড়ায় তবে হৃঃখভোগের সম্ভাবনা থাকলেও ক্কাস্তত

১৯

ধর্মনিরপেক্ষতা

কিছু সংখ্যক ব্যক্তির ধর্মকে উপেক্ষা করার সতসাহস থাকা চাই। সমাজে উন্নয়নেয় প্রয়োজন স্বীকৃত হলে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি সাধারণ মানুষের আক্রোশ দীর্ঘকাল স্থায়ী না হবারই সম্ভাবনা সমাজ বাক্তিকে মুলাবান মনে করতে পানে তখনই যখন প্রবহমান মানব ধারাকে সম্দ্ধির পথে নিয়ে যেতে ব্যঞ্চিও ঘন্বান হয়

পরিশেষে একটি কথা বলে আমার বক্তব্যে সমাপ্তি টানি। প্রথাবদ্ধ কোন ধর্মেই আমার কোন আস্থা না থাকলেও আমার আপনজন যে কোন ধর্মে বিশ্বাসী হতে পারে তার প্রতি আমার অন্নরাগে তাতে বিন্দুমাত্র ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না।

সেক্যুলরিজ, ম্‌ অধ্যাপিকা কাদদী জোন হোসেন ইংরেজী বিভাগ

ইংরেজীতে বক্তৃতা করার জন্য আশা করি আপনার! আমাকে ক্ষমা করবেন কারণ আমার বাংলা এসমস্ত বিষয়ের ওপর আলোচনা করার পক্ষে যথেষ্ট পরিশীলিত নয়।

মিষ্টার সাহা ধর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারে তার অবস্থান নির্দেশ করে আলোচনার স্মত্রপাত করেছেন। আমার পঙ্গেও সেভাবে শুরু করাই ভাল বলে মনে হয়। ঈশ্বর বিশ্বাস প্রভৃতি ব্যাপারে আমি মুক্তপন্থী বা নাস্তিক বলে নিজেকে চিহ্নিত করব না। আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন এবং কবুল কর! ভাল যে ধর্মের প্রতি আমার একটা আবেগগত দুর্বলতা আছে, শুধু মাত্র নিজের ধর্মের প্রতিই নয়, সাধারণভাবে সব ধর্মের প্রতিই আমার এই পক্ষপাতিত্ব এবং আমার মনে হয় যে, যদিও প্রায়ই ধর্মকে অপব্যবহার কর! হয়েছে- মানুষের সবচেয়ে খারাপ দিকগুলি বের করে আনার ব্যাপারে কিন্তু তবু উন্নততর ধর্ম বিশ্বাসগুলি সমাজে মঙ্গলময় শক্তি হিসাবেও কম কাজ করেনি যদিও প্রত্যক্ষভাবে হয়ত এই মঙগলময়তা রাষ্ট্রীয় শরীরে যুক্ত হয়নি। উন্নততর ধর্মাবলী বলতে আমি অবশ্য সেই সমস্ত ধর্মবিশ্বাসই বোঝাচ্ছি, যে সমস্ত ধর্মের নৈতিক দিক তার এ্রন্দ্রজালিক দিকটির চেয়ে প্রাধান্য না৷ পেলেও, অন্ততঃ সামাজিক গুরুত্ব পেয়েছে আমি বলব যে, আজকের পাশ্চাত্যের জনকল্যাণমুখখখী

১৪

ধর্মনিরপেক্ষতা

রাষট্রগুলি অনেকখানি খৃষ্টান ধর্মের অস্তনিহছিত সত্য বা মূল নুরটি গ্রহণ করেছে, যদিও অনেকে এই কথাটি সব সময় স্বীকার করতে চান না। অস্ত দিকে প্রখ্যাত সমাজ-সংস্কারকদের অনেকেই খৃষ্টান হিসেবে প্রবল বিশ্বাসে বলীয়ান সং বলে নিজেদের মনে করেছেন যদিও বাইবেলের নিদে'শ “অন্যের নিকট যেরূপ আচরণ প্রত্যাশা কর তার প্রতি সেইরূপ আচরণ কর' ব! 'প্রতিবেশীকে আত্মজ্ঞানে ভালবাসো' প্রভৃতি স্ুভাষিতাবলী অন্ততঃ তাদের নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত হয়নি। আমার মনে হয় মানুষের জীবনে ধর্মের প্রয়োজন আছে।

সেক্যুলরিজমের প্রশ্নটি আলোচনা করতে হলে রাট্রের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্কটি বিবেচনা করে দেখতে হয়। এটা সাধারণ ভাবে সকলেই শ্বীকার করবেন যেস্পবজনের জন্য শ্ুন্দর জীবনযাত্রা সম্ভব করে তোলার জন্যই রাষ্ট্রের অধিষ্ঠান। এই সুন্দর ধীবন অবশাই একজন লোকের মানপিক জগৎ বা আত্তর প্রবণতাকে ধরে নিয়েই এই আস্তর প্রবণতাই ধর্মের ব্যক্তিগত আগষ্ঠানিক দিকের মধ্যে মূর্ত হয়। রাষ্ট্রের তা হলে ধর্সের সঙ্গে কি সম্পর্ক হবে? অনেকগুলো পথই খোলা আছে।

রাষ্ট্র ধর্মভিত্তিক হতে পারে যেখানে আইন মাত্রেই বিধিদত্ত নির্দেশ ধর্ম-কেন্দ্রিক রাষ্ট্রগুলি যে ভিত্তির ওপরে তাদের আইন ব্যবস্থা সংস্থাপন করে এসেছেন তার পেছনে আছে এশ্বরিক স্থায় বিধানে আস্থা এবং তাদের ধর্নগ্রন্থাদিতে যে অন্ুশাসনগুলি আছে তাকেই তারা মানুষের মাধ্যমে প্রেরিত এশীবাণী বা অভিপ্রায় হিসেবে ধরে নেন। মধ্যুগীয় ক্যাখলিসিজম-শাসিত রাষ্ট্রে এর উদাহরণ পাই সমাজের সমস্ত লোকই যখন একই ধর্মাবলম্বী তখন এই জাতীয় ধর্ম-রাজ্য গ্রহণযোগ্য হলেও হতে পায়ে কিন্ত এমনটি প্রায় হয় না বললেই চলে এমন কি ম্ঠায়ুগের ক্যাথলিক রাষইগুলির দিকে তাকালেই দেখ! যাবে যে, এর প্রায়

৯৫

৫সকাল্া রত,

1211৭

সবকটিতেই আছে সংখ্যালদু ইহ-দী সম্প্রদায়ের উপস্থিতি। যে এই সংখ্যালদু সম্প্রদায়ের উপর করা হয়েছে, যে নির্ধাতন এরিক সহা করতে হয়েছে তা ইউরোপের ইতিহাসে এক কলছজনক অধ্যায় এই নিগ্রহ চলেছে কয়েক শতাব্দী ধরে। আধুনিক কালেও এই জাীয় অবস্থার ভুরি ভুরি উদাহরণ পাওয়া যায়। যেমন ধরা বাঁক উতর্ংশ শতকের সাউদী আরবের কথা। উনবিংশ শতকের সাউদী মারব আজকে মত এঁক্যবদ্ধ একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি কিন্ত ধর্মীয় উগ্রতা অসহিকু- তার চূড়ান্ত প্রকাশ আমরা সেখানে দেখেছি। ইংরেজ পরটক ডাউটির মণ ৃতান্তে তৎকালীন স্াউদী আরবের অবস্থার ফ্জার অভিজ্ঞতার পনুপুজ্ধ বর্ণনা আছে কৌতুহলী ব্যক্তি মাই প্রণিধান করতে পারেন। ভাউটি নিজের প্রাণটি রক্ষা করে কোনমতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্বস্ত ভ্রমণ করে গেছেন, কিন্তু পর্ধস্তই

সাধারণতঃ দেখা যায় যে, ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র কত চিন্তাকে উৎসাহিত করেই না বরং প্রতিরুদ্ধ করে এমনকি অবাধ মেলামেশাকেও নিরুৎসাহিত করে এবং এরই সঙ্গে চাপিয়ে দেয় কড়! সেল্সরশিপের পাহারা বলা হয়ে থাকে যে, সমস্ত নিষেধাজ্ঞা দ্বারা এ'রা এ'দের নাগরিকদের অসদাচরণ থেকে রক্ষা করে থাকেন। আসলে কিন্ত এ'রা একজাতীয় স্থিত স্বার্থকেও রক্ষ। করেন এর দ্বারা নির্ভেজাল বিশুদ্ধ বিয়োক্রার্সী 'বা রাষ্ট্র অতান্ত হুর্ণও। বরং বলা যায় যে কোন কোন রাষ্ট্র বিধিতে ধর্মীয় উপাদান অনুষঙ্গ অত্যন্ত প্রবল। সমস্ত রাষ্ট্রে বদি: সংখ্যালঘু ধ্ীয় সন্তুদায় থাকে তবে সাধারণতঃ অন্ততঃ সংবিধানের কাগজে এদের

বার্থ সত্রক্ষণমূলক নানা বিধান স্থান পেয়ে থাকে কিস্ত যেহেতু ধর্মই হচ্ছে সমস্ত রাষ্ট্রে ভিত্তি হেতু এই. সব রা সব সময়েই সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মসন্প্রদায়ভূজ চরমপন্থী একদল লোক থাকে প্রতৃতসংখ্যায় যারা রাই পুরোপুরি বম'রাজ্য করে ফেলার জন্য সরকারের ওপর কেবলই চাঁপ

ধাফেন। ইছদীদের ভন সৃষ্ট ইসরায়েলের উদাহষ্ঠণ আমাক খনে পড়ছে। এই রাষ্ট্রে একটি অভ্ভান্$ প্রধল উিগুলিইট। উপগল কাছে হানা ইসল্লায়েদী সরকারে খপর কেবলই চীপ সি কয়ে চলেছে যাতে রষ্ট্রচিকে পৃর়োপুষি ধর্ম-াষট্র দ্পার্তরিত কয়ে ফেলা হয়৷ ইসয়ীয়েলের আরধ সম্প্রগায়ের মিশ্টযছ কাগজে ফলত লাগাছিক সাধ ইত্যাদি কা করা ইয়েছে কিন্ত বন্তত ভীদৈর অবস্থা ভন রকম কাছেই এই সমস ব্াষ্টরে ধারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ধম-সন্প্রদাবিকুষ্ঠ মন বা হারা পুক্তচিত্তায় বষ্ধান করেমি ভ্ীকধা হ্বাডাধিকভাবেই দিক্াপত্তীক্প অগ্ভাব যোধ ধরে থাকেন। হয়ত আপাততঃ “সব ঠিকই' আছে কিগ্তু যেফেনি মুই, “সব ঠিক' থাকবে না এবং আর্মর। এর প্রভৃতি উদাইরণ চৌখের সামনে দেখেছি।

রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের অন্থ রকম সম্পর্কও দাড়াতে পারে সমাজে গৃহত ধষেবর প্রতি সমধ/ন প্রত্যাছাকস ছাক্ষা। রাই ধর্মকে নিকুতৎসা হিত করতে পায়ে। কখনো কখনো এট! প্রত্যক্ষ নিখাতনের পথ নিতে পারে। কখনেবি! ধর্মীয় আচার প্রভতিয় জন্ঠ যে অন্ধা বা আবেগ আমরা অনুভব করি তাঁকে রাস্থীয় অনুষ্ঠারদাদিতে টালিউড করে দেল্সা যেতে পারে, রাহীয় আদর্শের 'শোয়বার়সের' কাজে লাগীন হর ধর্মীয় স্ীতি প্রকরণ বাইরের ভিন্নতর সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক সমস্ত ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাঁমিত করে তোলা হয্ধ প্রবং তার উপর আছে কড়া সেঞরপিপেক্স প্রহর] আজকের পূরধিহীতে এরকম রাঙের উাহরদ আছে

এর ধেফে আমরা ধসিকপেক্ষ রাতের ধারণায় উপনীত হই। ধর্মসিরপেক্কতা শর্ধাটি অধশ্যই বর্খেই পরিকফাত় নয় এবং আমার যনে গস এই উনাই জীঞ্জকেই এইপভায় আধরা শঙ্ঘটি নিয়ে আলোচনা করছি। সেঁক্যলদিজখন্মাঁলে, যে মস সংধ্যাপরিষ্ঠে় ধর্মের নামে ক্ষমভাজ অপব্যবহার

সেক্যুলরিজম.

করা নয় তেমনি অন্যদিকে, এবং বাংলাদেশে একথাট1 বার বার বলা হচ্ছে যে, ধর্মের উৎসাদন বা ধময় আচার অনুষ্ঠান নিরুৎসাহিত করাও নয়। আমি যতট। বুঝি সেকু্যুলরিঞজম মানে আসলে সরকারকে বা! রাষ্রকে কোন বিশেষ ধর্মের সঙ্গে একাত্ম করে না দেখে কোন বিশেষ ধমকে রাহীয় ধম" হিসেবে পৃষ্ঠপোবণা না করা। কাজেই আমার মনে হয় এটা বোধ হয় বলা ঠিক নয় যে, বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামিক রা্টর। অবশ্য একথা বলা যুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে বাংলাদেশ ধিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র বল! যদিও এক কথা নয়। সেক্যুলর রাষ্ট্র কোন বিশেষ ধায় মতাদর্শকে প্রাধান্য দিতে পারে না এই জাতীয় রাষ্ট্র যেমন এর শিক্ষা ব্যবস্থা বা প্রচার মাধ্যমগুলির সাহায্যে কোন বিশেষ ধর্ম বা ধর্মীয় আদর্শ সকলের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলিকেও অনুরূপভাবে এই সীমাবদ্ধতাগুলি মেনে নিতে হয়

কিজ্ত এর থেকে অনেক প্রশ্ন ওঠে যার উত্তর দেয়া দরকার। রাষ্ট্রের কি তবে কোন আদর্শ থাকবে না? এরকম কোন রাষ্ট্র কি কল্পনা করা সম্ভবপর ষার কোন আইডিওলঙ্জী নেই? সেক্যুলরিজম যেহেতু কোন ধর্ম বিশেষের ওপর রাধ্রীয় আদর্শ নির্নাণ করতে ইচ্ছনক নয়, কিসের ওপরে তবে রাহীয় আদর্শের ভিত্তি স্থাপিত হবে ?

মধ্যযুগের ক্যাথলিক থুষ্টানরা যদিও বিধির বিধানকে আইনের ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে ছিলেন ; কিন্তু তার। টৈ৭৪। 1৪০ বা সামাজিক নীতিবোধেরও অস্তিত্ব স্বীকার করতেন। এই [5151৪] 15৬ এর ধারণার উৎপত্তি অতি প্রাচীন ইতিহাসের কুয়াশাচ্ছন্নতায় আবৃত। থ্রীকরা এই ধর্মোত্তর নীতিবোধকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন.। একটি সাধারণ শ্তায়বোধ এবং সকলের অন্ত গ্রহণযোগ্যতার একদি যুক্িসিদ্ধ ধারণ এই স্বীকৃতির পেছনে কাজ করেছে গ্যারিস্টটল বলেছিলেন যে, এই

৬১৮

ধর্মনিপ্লপেক্ষতা

বোধ সবজনীন এবং সর্বকালের জন্কই সতা। কিন্তু এসন্বদ্ধে পয়ে ছু প্রশ্ন তোল! হয়েছে। সে যাই হোক, রোমানরাও এই ন্যাচুরাল ল'র ধারণা গ্রহণ করেছিলেন এমনকি ক্যাথলিক ধুরদ্ধর সেন্ট টমাস গ্যাকুয়াই- নাস একে স্বীকৃতি দিয়ে বলেছিলেন যে, ন্যাচুরাল ল' আসলে মানুষের যুজি বা বুদ্ধির মাধামে প্রাপ্ত ভগবানেরই অভিপ্রায় অষ্টাদশ শতকের সেকুযুলরিস্টরা একেই শ্রহণ করে নিয়েছেন -_ জোরটা পড়েছে এই যুক্তি- গত ভিত্িটার ওপরে

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে হয়ত এই 'ন্যাচ্ুরাল ল'কে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায়। কিন্তু এই ধারণাটিও অস্পষ্ট এবং কখনো এর বূপরেখ। নিদিষ্ট করে দেয়! হয়নি ফলে এটা মুলত যতটা অন্ুতববেদ্য ততটা নিয়মাবলীর ব্যাপার নয়।

অন্য একটি সমস্যার দিকে তাকান যাক। যে কোন রাষ্ট্রেই যেহেতু নাগরিকেরা বিশেষ বিশেষ ধনের অনুসারী এবং এ'র! নিজেদেরকে দলগত ভাবেও সনাক্ত করতে উৎসাহী হবেন _-কাজেই রাষ্ট্রকে এই সমস্ত ধর্মীয় দলে বা সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষ এড়াবার জন্যও হয়ত আইন গ্রণয়ন করতে হবে।” ধর্ম একটি অত্যন্ত বিস্ফোরক পদার্থ, এটি আরো! বেশী করে বিস্ফোরক হয়ে পড়ে যখন কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে একে অপব্যবহার কর] হয়। কাজেই কোন রাষ্ট্র যদি ধর্ধনিরপেক্ষতার নীতিকে গ্রহণ করে তা হলে সেখানে ধর্মের এই জাতীয় অপব্যবহার যাতে না হতে পারে সে সম্বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে হবে। শুধু মাত্র ধমীঁয় সংঘর্ষ রোধ করার জন্যই নয়, সাধারণভাবেই ধর্মের নামে শোষণ বা অনাচার নিরোধ- মূলক আইন প্রবর্তন করতে হবে। অবশ্য আমরা এও জানি প্রকৃত প্রস্তাবে ঘেট! দরকার সেটা হল চিত্তের বিবতন বা মানসিকতার পরি- শোধন। কিন্তু এট। আদর্শের কথ1, এমনটি সব সময় হয় না--সেজন্যেই

৯৫১

মেকালছিক্বম

আইনের প্রয়োষ্ন, আইন এখানে আমাদের প্রন্ত সাহায্য আসতে পারে।

ধায় গৌড়ামী, ধর্মীয় অসহিষুতত! সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে জাতি বিদ্বেষ বর্ণ বেষমাজনিত সংঘর্ষের অলেক মিল আছে। এদের উৎপত্তি প্রায় একই রকম এবং এই ছৃ'রকম সমস্যাও সুলত্ একই জাতীয় এবং সম্ভবতঃ এদের মোকাবেলাও করতে হবে একই পদ্ধতিতে আমর! ইংল্যাণ্ডে দেখেছি যে, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই জাতি বা বর্ণ-বৈষমা- জনিত উত্তেজনা অনেকাংশে প্রশমিত করা সম্ভবপর হয়েছে আমাদের দেশে যেমন আমরা কেউ ইচ্ছেমত কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে কাউকে প্রপ্োচিত করতে পারি না ; আইনগত দিক থেকেই শান্তির ভয় আছে।*

শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মের স্থান সংক্রান্ত সমস্যাটিকে রাষ্ট্র কি ভাবে সমাধান করবে? রাষ্ট্র কি এই প্রশ্রটিকে আমলই দেবে না এবং উদাসীন থাকবে? শিশুর ধর্গশিক্ষার ভার কি পিতামাতার ওপর ছেড়ে দেয়! হবে, না! কি বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়গুলি তাদের নিজেদের ধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন তাদের নিঅন্ধ বিশেষ শিক্ষায়তনগুলিতে? এই সমস্ত শিক্ষায়তনগুলি পরিদর্শনার ভার সে ক্ষেত্রে থাকবে রাষ্ত্রের হাতে

এটা সত্য যে, সংখ্যালঘু সমস্যা, যা আজ একটি আস্তর্জাতিক সমস্যার রূপ লাভ করেছে, সেকুলরিজমই তার একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান। সংখ্যালঘু ধমীয় সম্প্রদায়ের সমস্যা যেখানে আছে ধর্ম- নিরপেক্ষতা ছাড়া আর কি সমাধানই বা হতে পারে। ব্যক্তিগতন্জাবে আমার মনে হয় এই সমস্যাটি ধরকে রাত্রীয়ভাঁষে পুরোপুরি উপেক্ষা করে সমাধান কর] যাবে না, এড়িয়ে যাওয়া হবে মাত্র সমাজে স্থিত অন্যান্ত ধর্ম সম্প্রদায় সম্বন্ধে আরো বেশী জানাজাণির সুপগ্সিচয়ের মাধ্যমেই

খ্ও

ধর্মনিরপেক্ষতা

সহনশীলতার মনোভাব উজ্জীবিত করা যেতে পারে এবং এখানেই রাষ্ট্রের দারিত্ব ভাবলে আশ্চর্যান্বিত হতে হয় যে একমাত্র নিজের ধর্ম ছাড়া অন্যের ধর্স সম্পর্কে আমরা কতো কম জানি। অন্যান্য ধর্মাবলী সম্পর্কে কিছু সহজ তথ্য সাধারণ জ্ঞানের প্রসার উৎসাহিত করা যেতে পারে। এট! শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হতে পারে আমার এটা ব্যক্তিগত বিশ্বাস যে, যদিও আমি নিজে খৃষ্টান তবু খৃষ্টান ধর্মই মুক্তি বা মোক্ষ লাভের একমাত্র পথ নয়। আমার আলে! মনে হয় যে সব ধর্মেরই নৈতিক দিক থেকে একটা সাধারণ তিত্তি আছে এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে এটার উপরই জোর দেয়া উচিত। ধর্ম আমাদের চিত্বকে উদার করার কথ কিন্তু বস্তুত এর উপ্টোটাই আমরা বেশী দেখি অর্থাৎ উদার করার বদলে ধম” আমাদের মনকে যেন সঙ্কীর্ণ করে ফেলে।

ওপরে শ্ীমি সেক্যুলরিজম সংক্রান্ত কিছু সমস্যার আলোচনা করার চেষ্টা করলাম। এট! অত্যন্ত ব্যাপক এবং কৌ তৃহলোদ্দীপক একটি বিষয় আশ! করছি অন্যেরা আরো! অনেক দিক তুলে ধরবেন সমস্যাটির

শি প্রথম দিনের আলো ঢনা ডক্টর মফিজ উদ্দীন আহমদ দর্শন বিভাগ

আমি মিসেস হোসেনের মন্তব্য--'ধম্নিরপেক্ষতা কথাটি অত্যন্ত অস্পষ্ট দ্যর্থববোধক'--এর সঙ্গে একমত। ধর্মনিরপেক্ষতা কথাটি শুধু দ্ব্যর্থকই নয়, কথাটি আপেক্ষিকও বটে

কিন্ত নিরপেক্ষতার প্রশ্বাট উঠছে কেন ? কারণ ধর্ন আছে এবং থাকবে এট ধরে নেয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন ধর্মমত আছে বলেই ধর্মনিরপেক্ষতার কথা উঠছে কাজেই আমার মতে ধম” নিরপেক্ষ ত৷ মানে ধর্মহীনতা নয় কারণ, তাহলে নিরপেক্ষতার আর প্রয়োজনই হবে না।

একই কারণে এট। আপেক্ষিক কারো কারো ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ধের প্রয়োজন ন। থাকলেও অধিকাংশের জীবনে ধর্ম রয়েছে কাজেই সাঘিকভাবে বা আদর্শগতভাবে সমাজে ধর্মের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা সকলে একসঙ্গে সম্পন্প উদাসীন নই এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবক্তারা তা আশাও করেন না। নিরপেক্গত। ভা হলে কার জন্য এবং কিভাবে সেটা প্রকাশিত হবে? তার মানে এর ক্ষেত্রবিশেষ আছে এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেঅের কথা তুললেই এই সমস্ত ক্ষেত্র, ব্যক্রি, সমাজ প্রভৃতির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের কথা এসে পড়ে জন্যই নিরপেক্ষতার ধারণাট'! আপেক্ষিক যেমন রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ হবে এটা আমরা চাই তেমনি একটি প্রতিষ্ঠানও ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারে

১৬,

ধর্মনিরপেক্ষতা

ধর্মনিরতক্ষতা অতএব একটি তত্ববা থিয়োরী ততটা নয় যতটা একটা আ্যাটিট্যুড বা মনোভঙ্গী যার একটা বাবহারিক প্রকাশ আছে। কথাটা বিশেষ করে উঠেছে এই জন্যে যে, পাথবীতে কোন সমাজেই সম্ভবত: আজ আর এক ধর্মের লোক নেই বিতিন্ন ধর্ষের লোকেরা একই রাষ্ট্রে সমাজে পাশাপাশি থাকে তাই এটা সাধারণভাবে স্বীকার করে নেয়া হয় এবং এটা বাঞ্ছনীয় অপরিহার্য যে, কতগুলি ব্যাপারে, যেমন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ইত্যাদির ক্ষেত্রে সমাজ রাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকবে। তার মানে নয় যে, আমি ব্যক্তিগতভাবে ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন থাকতে বাধা হব। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস আমার নিজব্ষ। কিন্তু অপরের জীবনের সীমানা ভিডিয়ে আমার বিশ্বাস আচার দিয়ে তাকে বিব্রত করার অধিকার আমার থাকবে না; তারও এই অধিকার থাকবে না। এইটুকু সামাজিক সহনশীলতা মানসিক প্রস্তুতির দরকার আছে ; তাতেই নিরপেক্ষতার গোড়া পত্তন এই প্রস্ততি স্বাভাবিকভাবে আসতে পারে আবার সমাজের প্রয়োজনের তাগিদে বিশেষভাবে চেষ্টাপ্রস্থত কাধক্রমের মাধ্যমেও আসতে পারে আজকের জটিল, দ্রুত পরিবর্তন প্রয়াসী সমাজে এই সচেতন প্রচে্টার প্রয়োজন আছে। এই অনুশীলনের একটি ক্ষেত্র হচ্ছে শিক্ষায়তন পাঠক্রম, যে পাঠক্রমের একটি লক্ষ হতে পারে সকল ধর্ধ সম্প্রদায়কে জানতে বুঝতে সাহায্য করা। যদি একে বলেন ধর্ম- শিক্ষা তবে জাতীয় ধর্মশিক্ষা অত্যন্ত াসঙ্রিক। এজাতীয় শিক্ষাই ধর্ননিরপেক্ষতাকে সার্থক করে তুলবে শুধুমাত্র নিজের ধর্মের রীতিনীতি আচার-অন্রষ্ঠান সম্বন্ধে তথ্য আহরণ নয়! সমাজে অবস্থিত সবক্কটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের অন্তনসিহিত সত্য কাকে অনুসন্ধান করার কথা আমি বোঝাচ্ছি এই জাতীয় ধর্মশিক্ষার দ্বার]

৮১০]

আলোচনা

অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ বাংলা বিভাগ

মানুষ অতীত কাল থেকে যে সাধন! করছে, সে হচ্ছে মানুষ হবার সধন1। বিভিন্ন ধর্মের উদ্ভব সেই সাধনারই একট! প্রকাশ মানুষ আবহমান কাল ধরে আগত জীবন সম্বন্ধে ভেবেছে, ধর্ম সন্বন্ধেও ভেবেছে। তার সেই ভাবনা যুগে যুগে এক এক জনের হাতে বা এক একট! গোষ্ঠীর হাতে এক এক রূপ বা নাম নিয়েছে তাদের মধ্যে তাই এক্য যেমন আছে, বিরোধও তেমনি আছে

মানুষে প্রধান ধর্মগুলে। সবই অত্যন্ত প্রাচটান। দীঘকাল ধরে আমরা এগুলে! অনুসরণ করে আসছি প্রায় সব ধর্সেই সহনশীলতা অন্ঠ সম্প্রদায়ের প্রতি সৌভ্রাত্রের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ব্যবহারিক জীবনে সৌত্রাত্র বাড়েনি এক্যর চেয়ে বিরোধই প্রাধান্য পেয়েছে মানুষ হবার সাধনা সফলকাম হয়নি এই সত্যটা! উপেক্ষা কর! যায় না।

ধমমতগুপণি যে সমাজে, যে সভ্যতায় উদ্ত,৩ হয়েছিল--সেই সব সমাজ সঙাতা তার থেকে অনেক বদলেও গেছে ॥। আদর্শ মানুষের ধারণাও বদলাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন আদর্শকে তুলে ধরেছে। এক ধর্মের আদর্শ অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রদ্ধেয় মনে হয়নি মুনলমানদের কাছে একজন আদর্শ হিন্দু যথেষ্ট আদর্শ মানব নন. একজন খুষ্টানের কাছে একজন আদর্শ মুসলমান যথেষ্ট শ্রদ্ধেয় নন। আবার একজন আধুনিক মানুষের কাছে এই সবকটি ধমাঁয় আদর্শ আধুনিক মানুষের সংজ্ঞার বিচারে অনম্প্শ মনে হতে পারে

এর একটা প্রধান কারণ সমাজ বদলাচ্ছে? অথচ সমাজ বদলের সঙ্গে সঙ্গে ধম বদল বা শোধন প্রায় ধর্মহীনতার নামাস্তর হবে।

ধর্মনিরপেক্ষত।

নিজের সনাতন ধর্মের আদর্শ যতই অসম্পূর্ণ হোক ন। কেন, কেউই তা ছেড়ে দিতে চায় না বা দেয়না আমরা ততটুকুই অসম্পুর্ণ থাকি বা পিছিয়ে থাকি।

প্রত্যেক ধমে নিট কতগুলি বিধান আছে এই জিশিল পালন কর] যাবে, এগুলি যাবে না। আমার ইচ্ছে হলেই আমি এই সম বিবি- নিষেধ অনুষ্ঠান সংস্কার করে নিতে পারি না। যাদ সংস্কার করে নিতে ন। পারি তবে চোন্দ শবা চোদ্দ হাজার বছরের ধম আজকের সমাজে কি ভাবে, কতটুকু পালন করব ? খুগের শ্রেষ্ঠ মানুষ ভবে কি ভাবে হবো ?

সাধারণ লোক এত কিছু ভাবে না। নিরক্ষর চাষী ব। শ্রমিক ব! (রকলাওয়ালাও ধর্শ পালন করে, তারও ধম' আছে ভিম ভিন্ন অনুশাসন, নিষেধাজ্ঞা, আদর্শ অনুষ্ঠান ইতা!দি পালন করে। সে আদর্শ মুসলমান, আদর্শ হিন্দু, আদর্শ খুষ্ঠান ইত্যাদি হতে চেষ্টা করে। নিজ নিজ ধর্ম পালন করে মিলনের চাইতে বিভিম্নভার দিকেই সে শায়। আচরণে বিডি ধর্মে মিল হয় না এবং মিল হয় না বলেহ লোকে মাথা ফাটাফাটি করে। তাই আমার প্রশ্ন সবকটি ধন্নকে প্রবণ্ভাবে উৎসাহিত করে মিলনের দিকে আমর! যেতে পারন কি ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকুত তাংপৰ্ কি তাই *

ইতিহাসের দিকে তাকালেও এই প্রশ্ন ঘশীডৃত হয়। প্রায় সব ধর্মেই বলেছে, মানুষ সব ভাই ভাই সব মানুষকে তাগো বাসে।। অথচ হিন্দুরা বৌদ্ধদের গলা কেটেছে, বৌদ্ধরাও হিন্দুদের প্রতি অসহিদুঃ হয়েছে, ইহুদী খৃষ্টান জঙ্গশঞে, সুসলমানে ইছদীতেও সঙ্কাণ নেই,-- এই মুহতে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমানে ইজ্দীতে সংঘর্ষ চলছে। আবার একই ধর্মাবলম্বীদের মধোও বিভিন্ন দন্প্রদায়ে মারামাগি হয়েছে হচ্ছে

টি

আলোচনা

শিয়া-নুন্লী, শাক্ত-বৈধব, রোমান-ক্যাথলিক প্রোটেষ্টা্টদের মধ্ো বিরোধ তার প্রমান।

কাজেই, সামাজিকভাবে, ডক্টর মফিজ যেমন বলেছেন, সবধর্মের মিলন যেখানে, সেই মানুষ হবার আদর্শকেই গ্রহণ করতে হবে। লোকে ব্যক্তিগত জীবনে অবশাযই ধর্ম পালন করবে এই সংস্কার অত্যন্ত গভীর প্রাচীন। এমনকি নাস্তিকও ধর্মের পরিবেশে মানুষ হয় এবং জীবনের কোন বিপর্যয় বা সংকটের মুহ.৫ে তারও নিজস্ব ধর্মের আশ্রয়ের কথা মনে পড়ে তবে সমাজ জীবনে যেখানে আরে! পাঁচজনকে নিয়ে আমাদের কারবার সেখানে এই মানুষের ধর্নকেই পালন করতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষতার তাৎপর্য এইখানেই |

নিরপেক্ষতার নামে শিক্ষাব্যবস্থায় একই সঙ্গে মাদ্রাসা, টোল বা সেমিনারীকে উৎসাহিত করে, বিশেষ বিশেষ ধর্মের ফ্যানাটিক তৈরী করে, বিরোধের ক্ষেত্র প্রস্তত করা উচিত নয়। রাষ্ট্র হবে ধর্মনিরপেক্ষ

জালাল উদ্দীন আহমদ

সামাজিক কাঠামোর মধো রেখে ধর্মনিরপেক্ষতার আলোচনা করতে হবে ধর্মীয় কার্যক্রমের মূল্য আমরা দেই, তবে ধমীয় উন্নত্ততা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সাধারণ লোককে এর ছুর্ভোগ বইতে হয়। এই ছুঃখ- জনক অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্ুব্রপাত এবং আজকের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রনীতির সুচনা কিন্তু এই নীতিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে গেলে এর আইনগত দিক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। পৃথিবীর যে সমস্ত দেশ ইতিমধ্যেই নিজেদের

ত্ড

ধর্মনিরপেক্ষতা

ধর্মনিরপেক্ষ বলে ঘোষণা করেছে তাদের সব কটি দেশ সব সময় তাদের জনসাধারণকে ধর্মান্ধতা বা ধায় উন্মত্ত থেকে রক্ষ। করতে পারেনি। ভারতবর্ষ উত্তর আয়ারল্যাণ্ড উদাহরণম্বরূপ বল! যেতে পারে। ভারতবর্ষে মহাত্মা গান্ধীর মত লোক যেমন অন্য ধর্মীয়দের হাতে নয়,তীর স্বীয় ধর্মের উন্মত্ততার হাতে মর্মান্তিক মৃত্যু বরণ করলেন সোয়েকারনোর মত ধর্মনিরপেক্ষ নেতার দেশে প্রচণ্ড ধর্মান্ধ তার পুনঃপ্রকাশ ঘটলো

বাংলাদেশেও আজকে ধর্মনিরপেক্ষতার মহান নীতি গৃহীত হয়েছে। কিন্তু এই নীতি সকলের কাছে মহান মনে নাও হতে পারে। প্রত্যেকেই নিজের ধর্মের প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়াতে চায় 'স্মসে নিজে সেই ধর্মের অন্শাসন বথাযথ পালন করুক আর নাই করুক। ধর্মনিরপেক্ষতা বললে তাই সে খুশী হয় না বরং একটা চাপা ক্ষোভের স্ষ্টি হয়। আমাদের দেশে এটা আমরা অনুভব করছি। কাজেই বাংলাদেশ সরকারকেও একটা সুষ্ঠ, সুচিন্তিত কার্ধক্রম গ্রহণ করতে হবে। যাতে এই ক্ষোভ অমূলক বলে প্রতিপন্ন হয়।

ধমীয় অনুভূতি একটা জৈবিক ( 68101981091 ) অনুভূতি কিন৷ আমি জানি না, নাকি এট! একটা 0090010107178 এর ফলাফল-- একটা সামাজিকভাবে নিয়ন্ত্রিত 0০741010776 76161 তবে এটা দেখেছি, ধমীয় অনুভূতি সকল লোকের সমান নয়। ধর্মাচরণ বলতেও সকলে এক রকম আচরণ করে না। তবে সব লোকেই বিপদ বিপর্যয়ের মুহুতে ঈশ্বর বা আল্লার আশ্রয় নিতে চায়--হাসপাতালে যুদ্ধক্ষেত্রে এই জাতীয় ধর্মীয় অনুভূতির অজত্র উদাহরণ পাওয়া যাবে।

রাশিয়া, চীন প্রভৃতি বস্ততান্ত্রিক দেশগুলিতে ধর্ম নিয়ে হানাহানি ধায় উন্মতৃতা নেই। এর থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর! প্রেরণা গ্রহণ

১৭

আলোচনা

করতে পারেন। ক্রুশ্চভের ব্যক্তিগত একটি আচরণ থেকেও আমর! ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রনীতির একটু উদাহরণ পাই। আমেরিফার যৃক্ঞবাষ্ে ভ্রমণকালে ক্রুশ্চভকে একটি গীর্জায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হলে তিনি বলেন যে, এই বিশেষ সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করলে তার নিজের দেশে ভূল বোঝাবুঝি হতে পারে যে, তিনি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি তার দূর্বলতা শুচিত করেছেন, অতএব তিনি নিরপেক্ষ রাষ্নায়ক নন।

ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব জাগিয়ে তুলতে জনশিক্ষা পত্র-পত্রিকা, বেতার প্রসূতি প্রচার মাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা আছে-বিশেষ করে ভূল বোঝা এবং বোঝানোর যেখানে এত স্থুযোগ আছে।

অধ্যাপক রমেম্রনাথ ঘোষ দর্শন বিভাগ

অধ্যাপক সনতকুমার সাহা সেক্যুলরিজমের তত্বের ব্যাখ্য। করেছেন যুক্তি বিজ্ঞানের বিকাশের চুড়াস্ত ফলাফলের দিক থেকে অধ্যাপক মফিজ উদ্দীন আহমদ প্রমুখ এর আপেক্ষিকতার ওপর জোর দিয়ে সবধম' সমশ্বয় এবং পরধর্মণ সহিষ্ণতার ওপর জোর দিয়েছেন। এই অথ হবৈততা অনাবশ্যক

বিজ্ঞান যুক্তিবাদের প্রসারের সাথে স্বাথে ধর্মের অনুশাসন, অনুষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য কমে আসে। পারত্রিক মোহটুকু কমে যায় এবং এহিক দৃষ্টিভঙ্গী তার স্থান দখল করে৷ বৃহত্তম সংখ্যার জনা জাগতিক

ধর্মনিরপেক্ষতা

স্বাচ্ছন্দ্য, সম্বদ্ধি, ম্বখ প্রভৃতির কামনা, সমাজের মানুষের জন্য মঙ্গল ইত্যার্দি বিজ্ঞানবিস্তার যুক্তিবাদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে এই সমাজ সম্পংক্ততা বা 5০০18] 17591557৩1 সেকুযুলর দৃষ্টিভঙ্গীর বৈশিষ্ট্য এর ফলে আধ্যাত্মিক দিকটা উপেক্ষিত হয় সত্য কিস্ত সমাজের সব মানুষের মঙ্গলের জন্য সবজনগ্রাহা নীতির অনুসন্ধান প্রশ্রয় পায় সাবজনীন মঙ্গলে নিয়োজিত কার্যক্রম বা নীতিবোধের উদ্বোধনই (সকুযুল- রিজমের লক্ষ্য ধমীঁয় নীতিবোধ বা সনাতন নীতিবোধের আপেক্ষিকতা ধরে নিয়ে এই অন্বেষা শুরু হয়।

ফরাসী বিজ্ঞানী চিন্তানায়ক লান্লাস যখন বললেন নীহারিকাপুঞ্জ থেকে- সৌরজগৎ সৌরজগৎ থেকে পৃথিবীর স্থষ্টি হয়েছে, নেপোলিয়ন তখন বেঁচে আছেন। নেপোলিয়ন তাকে প্রশ্ব করলেন, আপনি তো ঈশ্বর সম্বন্ধে কিছু বললেন না?" লাপ্লাস উত্তর করলেন "5০৫ ঢ)৪)5৮৮ 1] ০৪॥ 4০ ৮101১০৩০080 10901565151 ডারউইনতত্ব সম্বন্ধে রাসেলের একটি মন্তব্য আছে যে, কেউ একই সঙ্গে নিজেকে ডারউইনীয়ান খুষ্ঠান বলে দাবী করতে পারেনা বস্তত এই ভাবে বিজ্ঞানচিস্তায় ঈশ্বরের প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক অগপ্রামাণ্য বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং অনুরূপভাবে নীতিশান্ত্রও বিজ্ঞানের আওতার বাইরে ; যদিও যুক্তির বাইরে নয়।

তবে মানরপ্রেম, মানব কল্যাণ, মানুষের জন্য সহামুতৃতি, স্বাতস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা এসব প্রবণতা ধর্ম কেবল খবই করেছে-এট] ভাবাও ভূল হবে। ধর্মই সমস্ত আদর্শ আমাদের শিখিয়েছে প্রশ্ন হচ্ছে ধর্মের মহৎ দিকগুলির সঙ্গে অর্থাৎ নীতিবোধের সতাট্কুর সঙ্গে সেকুযুলর মঙ্গলের চিন্তাকে মেলাতে হবে ধর্মের 3০৪7৪-র দিকট1 গোলমেলে, জোর দিতে হবে তার £6%০৭1 3511109৯। দিকটার ওপরে তাহলে স্যেকুলরিজম সন্বদ্ধে সন্দেহ ব! ধর্মহীনতার ভয় অমুলক মনে হবে।

২১

আলোচন!

লুৎফুল শানিস

ধর্ম এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পেছনের অর্থ নৈতিক পটভূমিটার ওপর আরো জোর দেওয়া উচিত। কুমারী মেরীর সন্তান লাভ, রামসীতার কাহিনীর নানা অলৌকিক ঘটনা, যুসার ঈশ্বরদর্শন প্রভৃতি অবাস্তব অবিশ্বাস কাহিনীর উপর স্থাপিত হওয়া সত্বেও যে লোকে সব ধর্মে আস্থা স্থাপন করেছে তার কারণ অর্থনৈতিক। তেমনি আজ যে ধর্ম- নিরপেক্ষতার কথা উঠেছে এরও কারণ অর্থ নৈতিক। বাংলাদেশের উদ্ভবই তার প্রমাণ কাজেই অর্থনৈতিক কাঠামোকে বদলে দিতে পারলে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নটি নিয়ে তর্কেরই অবকাশ থাকবে না। কারণ নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি গৌণ হয়ে যাবে।

নুরুল ইসলাম

ধর্মনিরপেক্ষতার জোরটা হচ্ছে মনুষাত্ের ওপরে আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমিও মানুষ-_এটাই মিলনের ভূমি আমি বাঙালী, আমি মুসলমান _কিস্তু সবোপরি আমি মানুষ। সহনশীলতার এটাই হচ্ছে ভিত্তি। বাঙালী জাতীয়তাবাদ বললে অবাঙালী বাদ পড়ে যায়, ইসলাম ধর্মাবলম্বী বললে অমুসলমান দূরে থাকে, আমি এশীয় বললে অস্থরা অনাত্মীয় বোধ হয়__ সমস্ত পরিচয় তাই সহনঙ্খঈলতার ভিত্তি হতে পারে না--সেক্যুলরিজম সহনশীলতার অগ্ত নাম

৩৩

ধর্মনিরপেক্ষতা

মোস্তফা কামাল

আমার ছুটি প্রশ্ন আছে অধ্যাপক গোলাম মুরশিদের কাছে। (১) ধর্মই কি মারামারি